আমার দৃষ্টিতে গত কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় উপস্থাপক শাহরিয়ার নাজিম জয়।
চ্যানেল আই-এ তার '৩০০ সেকেন্ড' অনুষ্ঠানের কোনো পর্ব দেখেননি এমন ইউটিউব ইউজার বোধহয় খুঁজে পাওয়া যাবে না। বিশেষ করে আমি ৩০০ সেকেন্ডের প্রতিটি পর্ব দেখেছি এবং দেখি।
প্রশ্নের ফাঁদে ফেলে ভেতরের কথা বের করে আনার এক অদ্ভুত ক্ষমতা আছে জয়ের মধ্যে। বিশেষ করে তার প্রশ্ন করার ধরণ, সাহসিকতা ও কন্ঠ আমার খুবই প্রিয়। প্রশ্ন করার অসাধারন দক্ষতায় মাত্র ৩০০ সেকেন্ড অর্থাৎ ৫ মিনিটে গভীরের কথা বের করে আনার এই অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করে সেহাঙ্গল বিপ্লব। এছাড়া তিনি এটিএন বাংলার জনপ্রিয় সেলিব্রিটি টক-শো "সেন্স অফ হিউমার", এশিয়ান টিভির "কমনসেন্স" এবং একুশে টেলিভিশনের "উইথ নাজিম জয়" অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেছেন।
যাই হোক জয়ের এই ক্যারিয়ারের আগে তার ছিলো সোনালী অভিনয় জীবন। ২০০৭ সালে 'গোধুলী লগ্নে' নাটক দিয়ে তার টেলিভিশন পর্দায় অভিষেক হয়। 'বিলেত বিলাস' ও 'কন্যা কুমারী' টেলিভিশন নাটক দিয়ে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলো। তার পরিচালিত প্রথম টেলিভিশন নাটক গলির 'মোড়ে সিডির দোকান' সহ কয়েকটি নাটক দিয়ে ছোটপর্দার প্রথম সারির কয়েকজন অভিনেতাদের মধ্যে অন্যতম হয়ে উঠেছিলো জয়। তবে আমি শাহরিয়ার নাজিম জয়ের প্রথম নাটক দেখেছিলাম 'সেদিন দু'জনে' । মোশাররফ করিম, সুবর্ণা মুস্তফা ও তিশা ছিলো নাটকটিতে। নাটকটি বারবার দেখেছি। এরপর হুমায়ুন আহমেদের পরিচালনায় কিছু নাটকে তাকে দেখেছি।
তার অভিনীত কয়েকটি সিনেমাও জনপ্রিয় হয়েছিলো। মান্না, শাবনূর, অপু বিশ্বাসদের সঙ্গে অভিনয় করেছেন। ২০০৬ সালে 'জীবনের গল্প' দিয়ে তার চলচ্চিত্রে অভিষেক হয়। পরবর্তীতে তিনি এই যে দুনিয়া, গ্রাম গঞ্জের পিরীত, পাষাণের প্রেম, ও মোস্ট ওয়েলকাম ২, চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। ২০১৫ সালে 'প্রার্থনা' দিয়ে তার চলচ্চিত্র পরিচালনায় অভিষেক হয়।
দীর্ঘ সময় তার অভিনয়ে বিরতি চলছিলো, জয় ছিলো না কোন নাটক-সিনেমায়। তবে রায়হান রাফির হাত ধরে আবারো কাজে ফিরছে এই প্রতিভাবান অভিনেতা ও উপস্থাপক। 'ফ্লোর নাম্বার ৭' এ অভিনয় করেছে শাহরিয়ার নাজিম জয়।
'ফ্লোর নাম্বার ৭' এর নির্মাতা জয়ের সম্পর্কে বলেছে, "'ফ্লোর নাম্বার ৭' এর সবচেয়ে বড় চমক হবেন শাহরিয়ার নাজিম জয়। তাকে একেবারে নতুনভাবে হাজির করা হয়েছে। জয় ভাই তার দীর্ঘ ক্যারিয়ারে এমন করে কখনো পর্দায় আসেননি। অভিনেতা থাকার পর উপস্থাপক জয়কে বিভিন্নভাবে দর্শক দেখেছেন। আবারও নতুন এক অভিনেতা জয়কে দেখা যাবে ফ্লোর নাম্বার ৭-এ যা কেউ কল্পনা করেনি আগে।"
পরিচালক রায়হান রাফী মনে করেন, শাহরিয়ার নাজিম জয়ের ক্যারিয়ারে এই কাজটি হবে 'ওয়েলকাম ব্যাক প্রজেক্ট'। জয়ও নির্মাতার সাথে একমত হয়েছে। জীবনের গল্প, পাষাণের প্রেম ছবির এই অভিনেতা বলেছে যে অভিনয় শিল্পী হিসেবেই তার প্রথম পরিচয়। জয় তৈরি হয়েছে অভিনয় দিয়ে। অভিনয়ের প্রতি সবসময় তার দুর্বলতা আছে। ভালো কাজ পেলে অভিনয়ই করবেন। 'ফ্লোর নাম্বার ৭' এ রাজ সুপারস্টারের চরিত্রে অভিনয় করেছে। তার সহশিল্পী হিসেবে আছে বুবলী, তমা মির্জা, রাজ মানিয়া, সুমন আনোয়ার প্রমুখ।
এর আগে মাইদুল রাকিবের প্রজেক্ট 'গার্লস স্কোয়াড ২'এ বোধহয় অভিনয় করছে জয়। আশা করবো এর মাধ্যমে আগের মতো বাংলা নাটক, সিনেমা, ওয়েব সিরিজ বা ফিল্মে নিয়োমিত হবে শাহরিয়ার নাজিম জয়। শুভকামনা তার জন্য।
