ওয়েব ফিল্ম : নেটওয়ার্কের বাইরে
ওয়েব প্লাটফর্ম: চরকি
ব্যাক্তিগত রেটিং : ৮.৫/১০
(স্পয়লার নেই)
প্রথমেই বলে নেই, গল্পের মূল চরিত্র গুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। তাদের মত আমিও মাঝে মাঝে চলে যাই নেটওয়ার্কের বাইরে। তাই বলতে পারি এই সিনেমার টার্গেট অডিয়েন্স আমার জেনারেশনের মানুষ। বন্ধুত্বের গল্পের এক অসাধারণ নির্মাণ মিজানুর রহমান আরিয়ানের।
আমাদের দেশে ভ্রমণ নিয়ে সিনেমা খুবই কম হয়েছে। 'দারুচিনি দ্বীপ', 'আমার আছে জল' এই দুটি সিনেমার পর, দেশে এ জাতীয় সিনেমা তেমন তৈরি হয়নি। এমন আন্ডাররেটেড একটি বিষয় নিয়ে কাজ করা ছিল যথেষ্ট চ্যালেঞ্জিং। তারপরও প্রতিটি বিষয়কে নিপুণভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে সিনেমায়।
গল্পটা চার বন্ধুকে নিয়ে নির্মিত। মুন্না (খায়রুল বাশার), আবীর (শরীফুল রাজ), রাতুল (ইয়াশ রোহান), সিফাত (জুনায়েদ বুকদাদী)। এদের চারজনের লাইফ স্টাইল চার রকম। কেউ নতুন মিউজিক অ্যালবামের জন্য সুর খুঁজে পাচ্ছে না, কেউ ব্রেকাপের ফলে সুইসাইড করতে চাচ্ছে, কেউ ক্লাসের সবথেকে ভালো ছেলে আবার কেউ নিজের জীবন নিয়ে কোনো চিন্তাই করে না।
হঠাৎ একদিন চার বন্ধু পরিকল্পনা করলো, তারা কক্সবাজার এবং সেন্টমার্টিন ঘুরতে যাবে। এই ভ্রমণের পরিকল্পনাকে কেন্দ্র করে তাদের নিজেদের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ, হাসি-তামাশা এবং খুনসুটিকে পরিচালক এমনভাবে উপস্থাপন করেছেন, যেনো মনে হবে আপনার বন্ধুবৃত্তকে পর্দায় দেখানো হচ্ছে।
ট্রেইলার দেখে যদি আপনি মনে করেন, শেষটাও হয়তো এত রোমাঞ্চকর হবে, তাহলে আপনার ধারণা ভুল। আপনার চিন্তাকে ১৮০ ডিগ্রী বিপরীতে নিক্ষেপ করে সিনেমাটি এক নির্মম বাস্তবতাকে সামনে নিয়ে আসবে, যা হয়তো আপনাকে কাঁদাবে!
কি ছিলো সেই টুইস্ট সেটা জানতে হলে, আপনাকে দেখতে হবে 'নেটওয়ার্কের বাইরে'। পুরোই পয়সা উসুল একটা সিনেমা "চরকি" র।
স্পেশাল ম্যানশনস:
বাবার সাথে কথোপকথনের অংশটিতে আবেগের যে নিদর্শন ইয়াশ রোহান দেখিয়েছেন, সেটা এক কথায় 'অনবদ্য'!
'ওরে বল ও চাইলে নামতে পারে,আমি আছি।' -এই ডায়লগটা জীবন্ত মনে হয়েছে।
Production :
'নেটওয়ার্কের বাইরে' সিনেমার প্রোডাকশন বেশ ভালো ছিল। সুন্দর লোকেশনে শুট করা, মানসম্পন্ন কলাকুশলী, ভালো মানের ক্যামেরা ব্যবহার করা ছিল এই প্রোডাকশনের বড় সাফল্য।
10 minutes :
সিনেমার শেষ দশ মিনিটে এর সেরা অংশটুকু দেখা যাবে। মার্জিত পরিচালনা, সুন্দর অভিনয়, দারুণ আবহসংগীত সবটাই ছিল ভালো লাগার মতো।
Dialogue :
সিনেমাটার দূর্বল দিকটা খুব সম্ভবত এর ডায়লগ গুলো। আমার মনে হয়, ডায়লগ গুলো আরো সময় নিয়ে আরো সুন্দর ভাবে সাজানো যেত।
Acting:
অভিনয়ের ক্ষেত্রে মিশ্র অনুভুতি রয়েছে আমার। খায়রুল বাশার সবসময়ের জন্য বেস্ট। বেশ মেচিউর অভিনয় করেছেন শরিফুল রাজ। ইয়াশ রোহানও অনেক ভালো পারফরম্যান্স করেছে। জুনায়েদ বুকদাদীর লুক, এক্সপ্রেশন ঠিক থাকলেও ডায়ালগ ভেলিভারিতে ছিলো দুর্বলতা। নারী চরিত্রে যারা ছিলেন তাদের হাতে তেমন কাজ ছিল না। তবে তারা মোটামুটি ভালোই অভিনয় করছেন।
Music:
সিনেমার সবগুলো গান খুব ভাল লেগেছে। বিশেষ করে 'চল বন্ধু চল' গানটা এখন অবধি কয়েকশো বার শোনা হয়ে গিয়েছে।
সবশেষে নেটওয়ার্কের বাইরের পুরো টিমকে ধন্যবাদ, একটি ভালো সিনেমা উপহার দেয়ার জন্য। এভাবে এগোতে থাকলে একসময় আমাদের সিনেমা নিয়েও, নিয়মিত দেশে-বিদেশে চর্চা হবে।
